পাইলস এর চিকিৎসা ঔষধ

পাইলস এর চিকিৎসা ঔষধ- পাইলস মলম ও ঘরোয়া চিকিৎসা

পাইলস এর চিকিৎসা ঔষধ- পাইলস মলম ও ঘরোয়া চিকিৎসা ! মলদ্বারে পাইলস রোগের উৎপত্তি ঘটে। প্রচন্ড পরিমাণে ব্যথা অনুভব করে মলদার ফুলে গিয়ে একটা সময় রক্ত ঝরে। অনেক সময় দেখা যায় বেশি ফুললে চাপ দিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে নিতে হয়।এ রোগ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় ওষুধের মাধ্যমে সুস্থ থাকা। বর্তমানে অনেক ভুয়া ডাক্তারের চিকিৎসা দিয়ে রোগীরা প্রতারিত হচ্ছে।

পাইলস, যা হেমোরয়েড নামেও পরিচিত, মলদ্বার এবং মলদ্বারের অভ্যন্তরীণ এবং বাইরের রক্তনালীগুলির প্রদাহ বা ফোলাভাব। পাইলস সাধারণত বেদনাদায়ক বা অস্বস্তিকর হতে পারে, তবে এটি গুরুতর নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, পাইলস নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। যাইহোক, যদি পাইলস গুরুতর হয় বা ব্যথা বা অস্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। পাইলসের লক্ষণগুলি যদি আপনার থাকে তবে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তার আপনার লক্ষণগুলি মূল্যায়ন করবেন এবং আপনার জন্য সঠিক চিকিৎসার পরামর্শ দেবেন।

এই রোগের সাথে কম বেশি সবাই পরিচিত। গ্রামে ভুল চিকিৎসা দিয়ে অনেক মানুষের পরিস্থিতি খুব খারাপ করে তুলেছে। অনভিজ্ঞ চিকিৎসক মলদ্বারে কেমিক্যাল ও ওষুধ দিয়ে রোগ সারানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ক্ষতস্থানে পচনশীল দেখা দেয়। এই সময় রোগী অধিক পরিমাণে রক্তপাত ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

পাইলস কি ?

বাজারের ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার পেটের ভিতরে প্রবেশ করে কোষ্ঠকাঠিন্য জন্ম দেয়। ধীরে ধীরে একটা সময় পাইলস আক্রান্ত হয়। পাইলস রোগে আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণগুলো বেশি পরিমাণে মদ্যপান করা। দীর্ঘদিন ধরে বংশগত আমাশয় রোগের থাকে। শাকসবজি খাবার না খাওয়া, মলদ্বারের ভেতর আঘাত করা ও মাতৃকালীন সময়ে বেশি জনের চাপ প্রয়োগ করলে পাইলস রোগ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিছু কিছু মানুষের মলদার মাংসপিণ্ড খুবই দুর্বল। যার ফলস্বরূপ হিসেবে পাইলস রোগে নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। মাংস জাতীয় খাবার পরিহার করে নরম খবরে উপর নির্ভর করলে পাইলস নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ নয়।

পাইলস এর চিকিৎসার ওষুধ

সঠিকভাবে জীবন যাত্রার মান চালাতে পারলে পাইলস রোগ থেকে চিরদিনের জন্য মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চিকিৎসকের কাছ থেকে যথাযথ রোগের নির্ণয় করে নিরাপদ চিকিৎসা গ্রহণ করুন। অপারেশনের প্রয়োজন হলে চিকিৎসকরা তিন ধরনের অপারেশনের পরামর্শ দিয়ে থাকে। তবে সাধারণ অপারেশন রোগী জন্য উত্তর হবে। লেজার রশ্মি দিয়ে অপারেশন করলে অপারেশন পরিপূর্ণ হয় না। এইজন্য অবশ্যই ভালো সার্জারি ডাক্তারের সাথে দেখা করুন এবং ডাক্তারের কথা মত অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হন। প্রাথমিক ভাবে পাইলসের অবস্থান থাকলে চিকিৎসক যে সকল ঔষধ সেবন করতে বলবে সেই ঔষধ গুলো সময়মতো খান। তার সাথে তরল জাতীয় খাবার খাওয়ার আগ্রহ বেশি দেখান। যেসব খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় এইসব খাবার থেকে একবারে বিরত থাকলে ওষুধের মাধ্যমে পাইলস চিকিৎসক আরোগ্য পাওয়া যাবে।

পাইলসের জন্য ব্যবহৃত  নির্দিষ্ট ওষুধের নাম :

পাইলস হল পায়ুপথে ফুলে যাওয়া শিরা। এটি একটি সাধারণ সমস্যা যা যেকোনো বয়সের লোককে প্রভাবিত করতে পারে। পাইলসকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: অভ্যন্তরীণ পাইলস এবং বাহ্যিক পাইলস। অভ্যন্তরীণ পাইলস মলদ্বার থেকে ভেতরের দিকে থাকে, যখন বাহ্যিক পাইলস মলদ্বার থেকে বাইরের দিকে থাকে।পাইলসের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ওষুধ পাওয়া যায়। এই ওষুধগুলি পাইলসের ব্যথা, চুলকানি এবং রক্তপাত উপশম করতে সাহায্য করতে পারে।

ডাবর পিলোচেক পাইলস রিলিফ ট্যাবলেট

অ্যানুসোল রেঞ্জ

জার্মালয়েডস

প্রোক্টোসেডিল

ইউনিরয়েড

জাইলোপ্রক্ট

পাইলস রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

পাইলস আঁকার বেশি ধারণ না করলে ওষুধের মাধ্যমে সরানো যাবে। অধিক পরিমাণে বেড়ে গেলে অপারেশন ছাড়া অর্শ রোগের সমাধান মেলে না। পাইলস এর চিকিৎসা নেওয়ার আগে নিজের খাদ্য তালিকার পরিবর্তন ঘটানো। বিশেষ করে গরুর মাংস খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। গরুর মাংস খেলে স্বাভাবিক অবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া সম্ভব বেশি থাকে। তখন মলদ্বার অবস্থা বেগতিক হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তির জন্য প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে দুই গ্লাস ঠান্ডা পানি পান করুন। দুপুরে খাবারের পরে ইসুবগুল সাথে নিচে খেতে পারে। রাত্রে শোয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধ খেয়ে নেবে। প্রচুর পরিমাণে বিশ্রামে থাকুন এবং দীর্ঘ ভ্রমণ পরিত্যাগ করুন। কোনভাবেই সাইকেল চালানো যাবে না। খুব বেশি কঠিন কাজ ও বেশি খেলাধুলা করা উচিত হবে না।

কুসুম গরম পানিতে স্নান : কুসুম গরম পানিতে স্নান করা পাইলসের ব্যথা এবং জ্বালা উপশম করতে সাহায্য করতে পারে। একটি বোলে কুসুম গরম পানি নিন এবং সেখানে ১৫-২০ মিনিটের জন্য বসুন।

বরফের প্যাক : বরফের প্যাক পাইলসের ব্যথা এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। একটি তোয়ালেতে কিছু বরফ নিয়ে পাইলসের উপর ১০-১৫ মিনিটের জন্য রাখুন।

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া : ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে যায়, যা পাইলসের একটি সাধারণ কারণ। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে ফল, শাকসবজি, পুরো শস্য এবং লেবু।

পর্যাপ্ত পানি পান করা: পর্যাপ্ত পানি পান করা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করুন।

ওজন কমানো : অতিরিক্ত ওজন পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায়। ওজন কমানো পাইলসের লক্ষণগুলি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

এই ঘরোয়া চিকিৎসাগুলি পাইলসের লক্ষণগুলি উপশম করতে সাহায্য করতে পারে। তবে, যদি পাইলসের লক্ষণগুলি তীব্র হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয় ।

 কিছু নির্দিষ্ট ঘরোয়া চিকিৎসার রেসিপি :

বরফের প্যাক: একটি তোয়ালেতে কিছু বরফ নিন। পাইলসের উপর ১০-১৫ মিনিটের জন্য রাখুন।

অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরা জেল পাইলসের ব্যথা এবং জ্বালা উপশম করতে সাহায্য করতে পারে। অ্যালোভেরা জেল পাইলসের উপর প্রয়োগ করুন।

চা গাছের তেল: চা গাছের তেল পাইলসের ব্যথা এবং জ্বালা উপশম করতে সাহায্য করতে পারে। চা গাছের তেল পাইলসের উপর প্রয়োগ করুন।

রসুন: রসুন পাইলসের লক্ষণগুলি কমাতে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন ২-৩ কোয়া রসুন খাওয়ার চেষ্টা করুন।

পেঁপে: পেঁপে পাইলসের লক্ষণগুলি কমাতে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন একটি পাকা পেঁপে খাওয়ার চেষ্টা করুন।

পাইলস হলো পায়ুপথের অভ্যন্তরে বা বাইরে ফুলে যাওয়া শিরা। এটি একটি সাধারণ সমস্যা যা যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। পাইলসের প্রধান লক্ষণ হলো পায়ুপথে ব্যথা, চুলকানি এবং রক্তপাত।

পাইলস হলে কি কি খাওয়া নিষেধ

প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা: প্রচুর পরিমাণে তরল পান করলে মল নরম থাকে, যা মলত্যাগের সময় ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে।ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া: ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার মল নরম করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।ওটমিল, আপেল, কলা, বাদাম, এবং বীজ খাওয়া: এসব খাবার ফাইবারের ভালো উৎস।প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া: প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার হজম করতে সহজ।অ্যাসিড-মুক্ত খাবার খাওয়া: অ্যাসিড-মুক্ত খাবার মলত্যাগের সময় জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে।

  • কফি এবং অ্যালকোহল: এই খাবারগুলো পাচনতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
  • মসলাদার খাবার: মসলাদার খাবার পায়ুপথের জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার: অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার পাচনতন্ত্রে চাপ তৈরি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
  • শুকনো খাবার: শুকনো খাবার পাচনতন্ত্রে শুষ্কতা তৈরি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
  • ফাস্টফুড: ফাস্টফুড অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত থাকে, যা পাইলসকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

পাইলস এর মলম

পাইলস এর মলমগুলি সাধারণত দিনে দুই থেকে তিনবার আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করা হয়। মলমটি প্রয়োগ করার আগে হাত ভালো করে ধুয়ে নেওয়া উচিত। মলমটি প্রয়োগ করার পরে আক্রান্ত স্থানে একটি নরম কাপড় দিয়ে চেপে ধরুন। পাইলস এর মলমগুলি সাধারণত নিরাপদ, তবে কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলির মধ্যে রয়েছে: ত্বকেরজ্বালাভাব,ত্বকের চুলকানি , ত্বকের শুষ্কতা ।যদি পাইলস এর মলমগুলি ব্যবহারের পরে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তবে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

বেপোজিন (Bepozinc) : বেপোজিন হলো একটি স্টেরয়েড মলম যা ব্যথা, জ্বালা এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।

হেমোরিকন (Hemoricon) : হেমোরিকন হলো একটি অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি মলম যা ব্যথা, জ্বালা এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।

হেমোরিডক্স (Hemroidalex) : হেমোরিডক্স হলো একটি অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যানালজেসিক মলম যা ব্যথা, জ্বালা এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।

হেমোরোইন (Hemorrhoin) : হেমোরোইন হলো একটি অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যানালজেসিক মলম যা ব্যথা, জ্বালা এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *